দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের পশুর হাটগুলোতে বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু উঠতে শুরু করেছে। তবে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ছোট-বড় খামারিরা। জেলার অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর হাটে এখন সবচেয়ে বড় সংকট ক্রেতা কম থাকা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার কুড়িগ্রামে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার গবাদিপশু। এর বিপরীতে জেলায় চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার পশুর। জেলার ৯টি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ২৯টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি স্থায়ী ও ১৪টি অস্থায়ী।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর পশুর হাটে জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও চরাঞ্চল থেকে আসা খামারিরা গরু নিয়ে অবস্থান করছেন। হাটজুড়ে গরুর সারি থাকলেও তুলনামূলকভাবে ক্রেতার উপস্থিতি কম। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত দাম তো দূরের কথা, গরু বিক্রিই করতে পারছেন না।
খামারিরা বলছেন, কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলেও বাজারে আশানুরূপ ক্রেতা না আসায় তারা আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের অনেক পরিবার সারা বছর গরু লালন-পালন করে ঈদের সময় বিক্রির টাকার ওপর নির্ভরশীল। ন্যায্যমূল্য না পেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের।
সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের খামারি মিজানুর রহমান বলেন, ‘এক বছর ধরে কষ্ট করে গরু পালন করছি। খাবার ও ওষুধের দাম বেড়েছে। কিন্তু হাটে ক্রেতা কম, যে দাম বলছে তাতে খরচই উঠবে না।’
আরেক বিক্রেতা জলিল মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকে গরু নিয়ে হাটে আছি, এখনো ভালো কোনো ক্রেতা পাইনি। সবাই শুধু দেখে যাচ্ছে, কিনছে কম।’
হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজারে গরুর দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। তাই অনেকে শেষ সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গরু অনেক আছে, কিন্তু দাম এখনো নাগালের মধ্যে আসেনি। তাই দেখে যাচ্ছি, পরে কিনবো।’
যাত্রাপুর হাটের ইজারাদারের সহযোগী রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, ‘হাটে পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। তবে এখনো ক্রেতা কম থাকায় বেচাকেনা আশানুরূপ হচ্ছে না। ঈদ ঘনিয়ে এলে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, হাটে ক্রেতার উপস্থিতিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিটি হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এমএস/